শিক্ষকের কাজ শুধু পাঠদান করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পাঠে আগ্রহী করে তোলা।
সময়—জ্ঞান, সততা, দায়িত্ববোধ, একজন শিক্ষকের মূলধন। শিক্ষকের আর্থিক অসচ্ছলতা হলেও তাঁর সামাজিক অবস্থান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানজনক, তিনি সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
শিক্ষকের উৎসাহ ও প্রেরণায় একজন শিক্ষার্থী অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। একজন শিক্ষক তার জ্ঞান, দক্ষতা, মেধা ও শ্রম দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রেরণা জোগান এবং তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে সাহায্য করেন।
একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঠিক পরামর্শ দানের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করেন এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেন। শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর, কারণ তারা তাদের শিক্ষা, আচার—আচরণ, শ্রম ও মেধা দিয়ে আদর্শ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে তৈরি করেন। একজন আদর্শ শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে মডেল। শিক্ষকের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় একজন শিক্ষার্থী তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণ করে। শিক্ষার্থীর মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করা, শিক্ষার্থীদের নীতিনৈতিকতা বোধ শিক্ষা দেওয়া শিক্ষকের অন্যতম কাজ। চরিত্র মানবজীবনে অমূল্য সম্পদ। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। একজন আদর্শ শিক্ষক সুন্দর সমাজ গড়ার কারিগর। শিক্ষক সমাজের কুসংস্কার ও অজ্ঞতা দূর করে সুন্দর সমাজ তৈরি করতে শেখায়। শিক্ষকের উন্নত চরিত্র ও মমত্ববোধ শিক্ষার্থীর জীবনে প্রভাব ফেলে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভেতর সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীল কর্মে আগ্রহী করে তোলে।
শিক্ষক শব্দটি অত্যন্ত মহান, কারণ এর মধ্যে লুকিয়ে আছে, ন্যায়, নিষ্ঠা, আদর্শ ও আত্মত্যাগ। একজন আদর্শ শিক্ষক তার শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বদলে দিতে পারে। শিক্ষকের ধৈর্য ও সহনশীলতা শিক্ষার্থীদের ভুল থেকে শেখাতে সাহায্য করে এবং তারা শিক্ষকদের সম্মান করতে শেখে। শিক্ষক শুধু জ্ঞান বিতরণ করেন না, তিনি এমন একটি ইতিবাচক ও আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি করেন, শিক্ষার্থীরা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার অনুপ্রেরণা পায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ফলে তাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে তাদের মধ্যে শ্রদ্ধার সম্পর্ক মজবুত করে।
একজন শিক্ষক ভালো শিক্ষা দানের পাশাপাশি তাদের জীবনের লক্ষ্য অর্জনেও সাহায্য করে, তাদের আদর্শ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে তৈরি করে একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখে। সম্মানিত শিক্ষকদের আদর্শ অনুকরণ করে আজ আমি নিজেও শিক্ষকতার মহান পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। আমি ঋণী আমার সকল শিক্ষকের কাছে। তাদের উন্নত চরিত্র আমাকে প্রভাবিত করেছিল বলেই আজ আমি নিজেই শিক্ষক।
একজন সৎ, দক্ষ ও দূরদর্শী শিক্ষক একটি প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষকের হাত ধরেই মানব সভ্যতা জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষকদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। একজন শিক্ষক সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সম্মানের পাত্র। সমাজে ন্যায় বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শ জাতি গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা প্রদীপের ন্যায় নিজেকে জ্বালিয়ে সমাজকে আলোকিত করেন। শিক্ষকের গুণাবলি বলে শেষ করা যায় না। শিক্ষার্থীদের চলার পথকে সুদৃঢ় করতে শিক্ষকের স্নেহ, মায়া মমতা ও ভালোবাসা অপরিহার্য। শিক্ষকের অবদানকে সম্মান করা এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা সকলের নৈতিক কর্তব্য।
‘শিক্ষক হলেন গুরুজন করেন শিক্ষা দান,
জীবন দিয়ে হলেও মোরা রাখব তাদের মান।’
সহকারী শিক্ষিকা, রেইনবো মডেল কেজি এন্ড হাইস্কুল, বন্দরটিলা, চট্টগ্রাম