জীবন চলার পথে জীবনের বাস্তবতায় মানুষ যে সকল পেশা গ্রহণ করে থাকে, কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে যত ধরনের মাধ্যম বা উপায় গ্রহণ করে, এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও সম্মানিত পেশা হলো শিক্ষকতার পেশা।
স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজেই পৃথিবীর সকল শিক্ষকদের শিক্ষক। পবিত্র কোরআনে মানব সৃষ্টির বর্ণনার পর মানুষের শিক্ষার প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, যিনি (আল্লাহ) কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে, যা সে জানত না। (সূরা আলাক্ব—৪,৫) এমনিভাবে তিনি পৃথিবীতে সকল নবি রাসূলকে উম্মতের শিক্ষক বানিয়ে পাঠিয়েছেন। যারা দিকভ্রান্ত উম্মাহকে রবের পরিচয় শিখিয়েছেন, সঠিক পথ দেখিয়েছেন।
সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায় শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
পবিত্র কোরআনে তিনি ইরশাদ করেন, তিনি (নবিজি) তাদের নিকট তার আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন। (সূরা আলে ইমরান—১৬৪)
হাদীস শরীফে এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমাকে কঠোরতা ও চাপ প্রয়োগকারী হিসেবে পাঠাননি। আমাকে পাঠিয়েছেন শিক্ষক এবং সহজকারী হিসেবে। (সহীহ মুসলিম—১৪৭৮)
নবিজির অবর্তমানে আলেমগণ হলো উম্মতের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। এ হলো দ্বীনি শিক্ষার বিষয়ে।
আর জাগতিক শিক্ষার ব্যাপারেও একজন শিক্ষক অন্যান্য জাগতিক পেশাদারের চেয়ে অনেক বেশি সম্মানিত ও মর্যাদাশীল।
অতএব শিক্ষক হওয়া পরম সৌভাগ্য ও সম্মানের ব্যাপার। কারণ তারা মানুষ গড়ার কারিগর। তারা জ্ঞান বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা শিক্ষা দেন। এই শিক্ষক শ্রেণিই হলো সমাজের মূল চালিকাশক্তি। তাদের আদর্শ ও দিকনির্দেশনায় ভবিষ্যত প্রজন্ম যোগ্য ও মানবিক হিসেবে গড়ে উঠে। তাই একজন আদর্শ শিক্ষকের গুরুত্ব ও ফযিলত অনেক বেশি।
বিশেষভাবে যারা দ্বীনি শিক্ষা দেয়—কোরআন ও হাদীসের শিক্ষক রয়েছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে সর্বোত্তম বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম, যিনি কোরআন মাজিদ শিক্ষা করেন এবং শিক্ষা দেন। (সহীহ বুখারী—৫০২৭)
একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তিনি তার ছাত্রের বাবা মায়ের ন্যায় পরম অভিভাবক ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠে। প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে তিনি তার ছাত্রের আদর্শিক অনুপ্রেরণাদায়ী হয়ে থাকেন। এটাই বাস্তবতা।
উস্তাদ মানে পরম অভিভাবক ও অনুপ্রেরণাদায়ী, এর যথার্থতা পেয়েছি উস্তাদে মুহতারাম “মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানী” হাফিজাহুল্লাহু —এর মাঝে। যিনি একাধারে একজন শিক্ষক, খতিব, গবেষক, কলামিস্ট, বিতার্কিক স্কলার এবং উম্মাহ দরদি একজন রাহবার।
অসংখ্য গবেষণালব্ধ বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ—কলাম রয়েছে তার, যা বহু আগেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকেও তিনি নিয়মিত লিখেন।
এছাড়াও তার বিষয়ভিত্তিক সুন্দর সাবলীল আলোচনা রয়েছে অনেক। উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা দিয়ে আলোচনার মঞ্চকে প্রভাবিত করা তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। কর্মক্ষেত্রে তিনি একজন পরিপাটি রুচিশীল অভিজ্ঞ কর্মবীর।
দুর্যোগ সংকট নিরসনেও তিনি সেবামূলক বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত আছেন। সর্বোপরি ইসলাম দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি একজন নিবেদিত প্রাণ পুরুষ। ক্ষণজন্মা বহুমুখী প্রতিভাবান এমন উস্তাদের সংখ্যা সত্যি বিরল।
আমার পরম সৌভাগ্য যে, এমন একজন উস্তাদের ছাত্রত্ত ও সান্নিধ্য লাভ করেছি এবং স্নেহ ও অভিভাবকত্ব পেয়েছি। সত্যিই আমি অনেক ধন্য, গর্বিত ও ভীষণ আনন্দিত।
আমার মতো এরকম অসংখ্য ছাত্রের তিনি অভিভাবক ও আস্থার প্রতীক। যার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা গ্রহণ করে তারা নিজেদের পথ চলে। এ যেন এক সাহাবি জীবনের নববি পরশ। সত্যিকারের উস্তাদ এমনই হয়।
আল্লাহ তাআলার নিকট উস্তাদে মুহতারাম সহ আমার সকল উস্তাদবৃন্দের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
শিক্ষাসচিব, মারকাযুত তারবিয়াহ বাংলাদেশ সাভার, ঢাকা।
সাবেক শিক্ষার্থী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।