‘প্রকৃতি উপভোগ করেই আমরা বেঁচে থাকি’
এই যে সকাল হলেই সুষমিত আবহাওয়ায় হৃদয়ে তরঙ্গের ঢেউ তুলে। ভুলে যাই বিগত দিনের সকল পাপ। আরো প্রাণবন্ত করে সবুজের ঘন কালো নিকুঞ্জ। দিগন্ত চরাচরজুড়ে সবুজের সমারোহ এক অনন্য মুগ্ধতার আবেশে জড়িয়ে নেয়। পাখিদের সুর ব্যঞ্জনা কর্ণকুহরে এনে দেয় স্বর্গীয় সুখ। বিস্তৃত জলরাশি শীতল করে চক্ষুদ্বয়। এই সুন্দর, সুনির্মল প্রকৃতি উপভোগ করেই আমরা বেঁচে থাকি। অথচ আমরা প্রকৃতির এই মমতা ও মাতৃত্ব ভুলে মেতে উঠি প্রকৃতির সাথে দ্রোহিতায়। প্রকৃতি সাথে আমাদের এ দ্রোহিতা এনে দেয় ভারসাম্যহীন এক অসহ্যকর পরিবেশ। দুর্বিষহ হয়ে ওঠে আমাদের জীবন-যাপনের মান। রোগ ব্যধি বেড়ে যায়। কমিয়ে দেয় জীবনের আয়ু। আমরা প্রকৃতিতে বসবাস করেও তাকে আপন করে নিতে পারিনি। নিজের সামান্য স্বার্থে নির্বিচারে গাছ-পালা, পশু-পাখি নিধন করছি। আমরা ভুলেমনা মানুষ ভুলে যাই প্রকৃতি আমাদের পরমাত্মীয়। আমাদের জীবন। আলো, বাতাস, ছায়া, অক্সিজেন ও মায়া-ভালোবাসা দিয়ে আচ্ছাদিত করে রেখেছে। আমরা কবে বদলাবো নিজেকে, আশপাশের পরিবেশ ও সমাজকে, আর কবে দেখবে সুস্থ, সুন্দর, শৃঙ্খল ও সুষম পৃথিবীকে?
লেখক, মোবারক ইবনে মনির
শিক্ষার্থী,জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল ফালাহ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

‘প্রকৃতির স্বাদ অনুভব’
প্রকৃতি অগুনতি ডালপালা মেলে ধরলেন যমিনের বুকে।হরেকরকম গাছগুলো প্রকৃতির মাঝে বিদ্যমান। কী নিদারুণ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে গাছ নিয়ে প্রকৃতি। এ পারের গাছের সাথে ওপারের গাছের কোনো দ্বন্দ্ব নেই।
গাছ আমরা এজন্যই লাগাবো।গাছের মাধ্যমে আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি।খরা দিনের ছাতা হচ্ছে গাছ। একজন পথিকও প্রচণ্ড কড়কড়ে রোদে যখন তার গা পুড়ে যাওয়ার উপক্রম মনে করে। ঠিক তখনি গাছের ছায়ায় বসে তার তপ্ত দেহ ঠাণ্ডা করবে।
আমাদেরকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা বোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।বেশি থেকে বেশি পরিমাণ গাছ লাগিয়ে প্রকৃতি বাড়াতে হবে।আর মানুষের ভেতরেও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা বোধ জাগ্রত করতে হবে।
পরিবেশ সুন্দর করার জন্য গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। তাই আমাদেরকে প্রকৃতির স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রকৃতি নিয়ে ভাবতে হবে।
লেখক, শামসুল আরেফীন
শিক্ষার্থী, জামিয়া আনওয়ারিয়া মাদরাসা,গাজীপুর।
‘সবার মনে অঙ্কিত হোক প্রকৃতির প্রেম’
প্রকৃতি তার অপরূপ মহিমায় ছেয়ে গেছে সর্বত্র।
তাইতো প্রতি বছর ভিন্ন রূপ নিয়ে হাজির হয় আমাদের সম্মুখে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে আমরা সকলেই মুগ্ধ। এই অমায়িক প্রকৃতির প্রেমে পড়েনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তার অভিনব ছোঁয়াতে বদলে দেয় সবচেয়ে কঠিন হৃদয়টাকেও। সেজন্য সময়ের হাতছানিতে আমরা তার প্রেমে পড়তে বাধ্য। আর সেই প্রকৃতির প্রেমে পড়া জাতীয় কবি_
কাজী নজরুলের ভাষায়,
“পাহাড় বেষ্টিত সবুজের সুর আলাপনে আমি,
শতাব্দীর সেরা উচ্ছ্বল চঞ্চল যৌবনা
ষোরশী নামে বিশেষিত হই,
স্নিগ্ধ প্রকৃতির প্রাপ্তি ঝরনার প্রেমে পড়ে।
আসলেই কিন্তু তাই। প্রকৃতির এই বিশেষ দিক অবলোকন করে যেকোনো ব্যক্তিই তার নিজেকে ভুলতে বাধ্য।কারণ প্রকৃতি আমাদেরকে দুহাত ভরে ক্রমেই দিচ্ছে।আর হয়তো সেজন্যই মানুষ যখন তার দৈনন্দিন কাজের যাতাকলে পিষ্ট, ঠিক তখনই প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুঁটে যায় তার সমস্ত দুঃখ,ক্লান্তি,কষ্ট ভুলার জন্য।
প্রকৃতি দেখার সৌভাগ্য সকলের হয় না।খুব অল্প মানুষের সেই সৌভাগ্য হয়ে থাকে। তাই যারা সেই রূপ অবলোকন করে তারা চায় বাকিরা প্রকৃতির সেই রূপ দেখুক। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকৃতির ছবি আপলোড দিতে শুধুমাত্র প্রকৃতি নিয়ে কি ক্যাপশান দিবে সেই চিন্তা করে আর কোন ছবি আপলোড দেয়া হয় না। ইচ্ছে থাকা সত্বেও আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যায় প্রকৃতি প্রেম।
প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের আলপনাতে অঙ্কিত হোক প্রকৃতি প্রেমের পড়া শত সহস্র ছবি, স্নিগ্ধ মুগ্ধতা নিয়ে উঠুক ফুটে পূবালী আকাশে প্রকৃতির ভেদনে সোনালী রবি।
লেখক, রাশেদ নাইব
শিক্ষার্থী, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা।
‘আমি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য!
প্রকৃতি তার আপন সৌন্দর্যে ছেয়ে আছে সর্বত্রে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য এতোটাই মনোমুগ্ধকর, যে কেউই সহজে তার প্রেমে পড়ে যাবে।
আমাকে আপনি আপাদমস্তক একজন প্রকৃতির সৌন্দর্য প্রেমিক বলতে পারেন।
যেখানেই যাই আমি প্রকৃতির প্রেমে পড়ি।
প্রকৃতির সাথে প্রেমালাপে একাকীত্বের ধূসর সময় পার করি।
প্রকৃতিও আমাকে ভালো না বেসে পারে না। কারণ প্রকৃতির প্রতি আমার ভালোবাসা সম্পুর্ন নিঃস্বার্থ।
নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বিনিময় ভালোবাসা দিয়েই হয়।
তাই প্রকৃতি আমাকে তার ভালোবাসায় আপন করে নেয়।
বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বিভিন্ন রূপধারণ করে।
কঠিন মনের মানুষ ও তার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়তে বাধ্য।
মাঝেমধ্যে প্রকৃতির সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে জানতে ইচ্ছে করে ‘তুমি রকমারি সাজে নিজেকে সাজানোর উপকরণ কোত্থেকে পাও ওহে প্রকৃতি?’
অদৃশ্য থেকে যেনো শুনতে পাই,
তোমাকে যে খালিক সৃষ্টি করেছেন, আমাকেও তিনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অলঙ্কৃত করেছেন।
তখন আমার স্মরণ হয়ে যায় মহান আল্লাহর শাশ্বত বাণী,
‘অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?’ (সুরা আর রাহমান)।
পরিশেষে কামনা করি,সব মানুষের মনে জাগ্রত হোক প্রকৃতি প্রেম। সবার হ্রদয়ে জায়গা করে নিক প্রকৃতির ভালোবাসা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার্থে সচেতন থাকুক সবাই।
লেখক, আমিনুর রহমান হাসান
শিক্ষার্থী, মারকাযুল বুহুস আল ইসলামিয়া ঢাকা।

‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে ভাবা উচিত’
আমাদের চারপাশের সবুজ-শ্যামলের অপরূপ সবুজায়ন সকলের দৃষ্টিকে শীতল করে, মুগ্ধ করে। এই অপরূপ সৌন্দর্যকেই বলা হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে কম-বেশি সকলেই ভাবি, উপভোগ করি। এই যেমন আকাশের মেঘমালা, বর্ষার মৌসুমে হৃদয় জুড়ানো বৃষ্টিফোটা ও রিমঝিম মধুর শব্দ। ফুল-ফল ও হাজারো বৃক্ষে নিপুনভাবে সাজানো পরিবেশ- এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে গাঁয়ের বুকে এঁকে-বেঁকে ছুটেচলা নদ-নদীও। যার দু’পাড়ে উঁচু-নিচু মেঠোপথ। মেঠোপথের পাশে ফুটে থাকা রঙ-বেরঙের নানা ফুল। কোথাও বা চিকচিকে চরাঞ্চল, সবুজ ফসলি মাঠ। গাছের বাগান, আখেঁর সারি। কোথাও বা কাশফুলে ভরপুর দৃষ্টিসীমা! সবগুলো দৃশ্যই মনোমুগ্ধকর। এসব দৃশ্য এদেশের সবখানেই পাওয়া যায়। আলহামদুলিল্লাহ।
অতএব, আমরা যদি প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য নিয়ে না ভাবি, তাহলে প্রাকৃতিক এই অপার সৌন্দর্যকে হয়তো আমরা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবো না। আর নতুন কিছুর উপলব্ধি ও ভাবনার উদয়ও হবে না। তাই সময় সুযোগে প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য নিয়ে ভাবা উচিত। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে প্রাকৃতিক এই নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দিন। আমিন।
লেখক, মোঃ হুসাইন আহমদ
শিক্ষার্থী,দারুস-সুন্নাহ মাদরাসা, টাংগাইল।