ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত মেয়ে তথা স্ত্রী, কন্যা ও মায়েদের। কারণ স্নেহ—মমতার মাধ্যমে মা—বোনেরা সহজেই শিশুদেরকে একত্ববাদ, তাক্বওয়া, তাওয়াক্কুল শিক্ষা দিতে পারেন, সংশোধন করে দিতে পারেন আকিদা—বিশ্বাস, দীক্ষা দিতে পারেন রাসুলপ্রেম, সত্যবাদিতা, মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সৃষ্টির সেবা, আত্মনিবেদনের আগ্রহ, শিরক—কুফর—জুলুমসহ সকল ধরনের পাপের প্রতি ঘৃণা। দেখিয়ে দিতে পারেন পাপ থেকে বাঁচার মসৃণ পথ। বুঝিয়ে দিতে পারেন দুনিয়ার জন্য দ্বীন নয় বরং দ্বীনের জন্য দুনিয়া। জানিয়ে দিতে পারেন মুসলমানদের একমাত্র গন্তব্য জান্নাতের ঠিকানা। তাদের মন—মানসে, মেধা—মননে এঁকে দিতে পারেন ইসলামের সত্যিকার রূপরেখা। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি দিতে পারেন জাগতিক শিক্ষা, উদ্বুদ্ধ করতে পারেন কারিগরি শিক্ষার প্রতি।
চারিত্রিক, মানসিক, মানবিক, সভ্যতা—সাংস্কৃতিক ধারা সমুন্নত রাখতে মমতা—শাসন—চেষ্টার মাধ্যমে কার্যকরী মৌলিক পদক্ষেপ নিতে পারেন নারীরাই। যে হাতে নারীরা তাসবিহ তুলে দেওয়ার প্রয়াস ও অদম্য প্রচেষ্টা চালান, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর জন্য সে হাতেই তলোয়ার তুলে নেওয়ার উৎসাহও দিয়ে থাকেন এই প্রেরণাময়ী রত্নগর্ভারা। ইতিহাস আমাদেরকে গর্ব নিয়ে এমন শত শত নারীর নাম জানায়।
পরিবার মানুষের শাশ্বত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জরিপে দেখা যায়, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তান লালন—পালনসহ সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরুষের চেয়ে নারীর তৎপরতা, চিন্তা ফিকির থাকে বেশি। যে সন্তান ঘরের জন্য চক্ষুশীতলকারী, হৃদয় প্রশান্তকারী, সে সন্তান নিঃসন্দেহে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মহামূল্যবান সম্পদ।
তাই বংশের পর বংশকে মূল্যবান সম্পদ বানাতে, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নায়েবে নবি করে গড়ে তুলতে, নারীদের মাধ্যমে শরিয়তসম্মত লালনপালন, তত্ত্বাবধান ও দ্বীন—ধর্ম সম্পর্কে অবগত করতে এবং ঘরের মধ্যে ইসলামি জীবন ও ইসলামি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পূর্বশর্ত ও প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে—নারীশিক্ষা। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরকেও দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা।
যে সমাজে একমুখী নীতি বিদ্যমান, যে সমাজে শিক্ষাদীক্ষা, গতি—অগ্রগতি, চরিত্র—সভ্যতা শুধু পুরুষদের উপর ন্যস্ত, সে সমাজের রং ফিকে। চিত্র ভঙ্গুর। সে সমাজ ইসলামি ব্যবস্থাপনায়, চিন্তা—দর্শনে অসম্পূর্ণ।
সুতরাং সুন্দর—সুষ্ঠু সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্র গঠনে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই। হাদিস শরিফে এসেছে—‘জ্ঞান অণ্বেষণ করা, জ্ঞানের উপর শ্রমসাধনা করা ও জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক পুরুষ—নারীর উপর ফরজ।’
তাই আমাদের সচেতন অভিভাবকদের দায়িত্ব ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের জন্যও শিক্ষাদীক্ষা সুনিশ্চিত করা, ইসলামের প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত রাখা। নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সম্পর্কে উম্মাহর দরদি স্বজন মুহিউস সুন্নাহ আনওয়ারুল হক রহ. পরিবারের কর্তা তথা অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়ে বলে গিয়েছেন—‘পরিবেশ তৈরি হয় মেয়েদের মাধ্যমে, তাই দ্বীনি পরিবেশ তৈরি করতে মেয়েদেরকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলুন।’ নেপোলিয়ন বলেছেন, এরাব সব ধহ বফঁপধঃবফ সড়ঃযবৎ, ও ‘ষষ মরাব ুড়ঁ ধহ বফঁপধঃবফ হধঃরড়হ.
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ করুন। দরদ ও গুরুত্বের সাথে তা পালন করার তাওফিক দিন। (আমিন)