আলহামদুলিল্লাহ, সম্মানিত দ্বীনদার মুসলমান মুত্তাকি আমার মুসল্লী ভাইয়েরা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানী যিনি আমাদেরকে রজব মাসের মত সম্মানিত এই মাসের শেষ প্রান্তে আখেরি জুমায় তার ঘরে আসবার বসবার জন্য কবুল করেছেন। যিনি আমাদের সকল প্রতিকূল পরিবেশকে ডিঙিয়ে এখানে আসবার বসবার জন্য মহা সুযোগ দিলেন, ওই আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকুর আদায় করি মহাব্বতের সাথে বলি, আলহামদুলিল্লাহ।
সম্মানিত দ্বীনি ভাইয়েরা আজ ২৭শে রজব। এই রজব মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের আমল হয়। এই মাসে মেরাজ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা করা ভালো এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা আরো ভালো। কিন্তু এই দিবসকে কেন্দ্র করে বিশেষ এমন কোন আমল ইসলামী শরীয়তে নেই। এই দিনকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন আমল আবিষ্কার করার বিধানও শরীয়তে নেই । এটা শরীয়তে নিষিদ্ধ। যার কারনে এই দিবসটাকে বিশেষ আমলের মাধ্যমে বিশেষভাবে পালন করা হয় না। আলোচনা হতে পারে বিশেষ করে এই মাসে মেরাজের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
প্রিয় মুসুল্লিয়ানে কেরাম, মেরাজের আলোচনা আমি গত সপ্তাহে শুরু করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজকেও আমি কিঞ্চিত আলোচনা আপনাদের সামনে পেশ করতে চাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তিনি আমাকে শক্তি দান করুন, যেন আমি আপনাদের সামনে সঠিক ইতিহাস বলতে পারি। আমি আমল করতে পারি আপনারাও আমল করতে পারেন। আমীন।
প্রিয় উপস্থিতি, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কুদরতের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তার নবীকে তার সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনার মধ্য দিয়ে। সব জায়গায় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আশ্রয়স্থলহীন। সব জায়গায় বদনাম। কঠিন জটিল মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা তার পেয়ারা হাবিব রাহমাতুল্লিল আলামিন, নবীদের ইমাম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই ফরস থেকে আরসে নিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন।
দেখুন, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের জাতি বিভিন্ন কিছু দাবি করে এই দিনকে কেন্দ্র করে। ইহুদীরা দাবি করে মুসা এমন নবী যাকে আল্লাহ তাআলা সকল জগতের উপর প্রাধান্য দান করেছেন। খ্রিস্টানরা দাবি করে ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা’আলা সবার উপরে মর্যাদা দান করেছেন। কোন জাতি আবার দাবী করে দাউদ আলাইহিস সালামকে আল্লাহতালা মর্যাদা দিয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মেরাজের মাধ্যমে তার নবী প্রিয় হাবিব মোহাম্মদকে তার কাছে নিয়ে, সেখান থেকে বিদায় সংবর্ধনা। প্রিয় হাবিবকে ইমাম বানিয়ে সকল নবীকে মুক্তাদী বানিয়ে প্রমান করে দিলেন, সকল নবী যদিও ইনারা আগে এসেছেন আর আমার পেয়ারা হাবিব যদিও পরে এসেছেন কিন্তু তিনি হলেন ইমাম আর ইমাম যিনি হন তার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
تِلْكَ ٱلرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ
“এই রাসূলগণ — আমি তাদের মধ্যে কিছুজনকে অন্যদের উপর মর্যাদা দিয়েছি।”— (সূরা আল-বাকারা, আয়াত 253)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাসীর (রহ.) বলেন:
“এই শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ স্থান হল মুহাম্মদ ﷺ — যিনি ‘সাইয়্যিদুল মুরসালীন’ (সমস্ত রাসূলদের নেতা)।”
— [তাফসির ইবনু কাসীর, ১/৬৭৩]
এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন; আমি মানবজাতির নেতা — অহংকার নয়
أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا فَخْرَ
“আমি কিয়ামতের দিনে আদম সন্তানদের নেতা, এতে আমার কোনো গর্ব নেই।”
— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 2278
এখানে “سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ” অর্থাৎ “সমস্ত আদম সন্তানদের নেতা” — অর্থাৎ নবী, রাসূল ও সাধারণ মানুষ সবাই অন্তর্ভুক্ত। ফলে এটি তাঁর ﷺ সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রমাণ।
রাসূল ﷺ এর হাতে ‘লাওয়ুল হামদ’ (প্রশংসার পতাকা)
وَبِيَدِي لِوَاءُ الْحَمْدِ وَلَا فَخْرَ
“প্রশংসার পতাকা আমার হাতে থাকবে, এতে আমার কোনো অহংকার নেই।”
— জামে তিরমিযী, হাদীস নং 3615; সহীহ মুসলিমেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।
অন্য এক হাদিসে আমাদের নবীর সা. বলেন; সব নবী আমার নেতৃত্বে হবে (কিয়ামতের ময়দানে)
وَآدَمُ فَمَنْ سِوَاهُ تَحْتَ لِوَائِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর পরে আসা সকল নবী আমার পতাকার নিচে থাকবেন।”
— মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং 19774; সহীহ হিসেবে ইবনে হাজার ও আলবানী উল্লেখ করেছেন।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, আমি নবীদের শেষ ও সর্বাধিক সম্মানিত।
فُضِّلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ
“আমি অন্যান্য নবীদের চেয়ে ছয়টি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছি…”
(এর মধ্যে আছে: আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর কথা দান করা হয়েছে, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আমার জন্য হালাল করা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবী আমার জন্য পবিত্র ও নামাযের স্থান করা হয়েছে, আমাকে সমস্ত মানবজাতির জন্য পাঠানো হয়েছে, আমাকে সুপারিশের অধিকার দেওয়া হয়েছে, এবং নবীদের শৃঙ্খল আমার উপর সমাপ্ত হয়েছে।)
— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 523; সহীহ বুখারিতেও অনুরূপ বর্ণনা (হাদীস নং 438).
সকল নবীর উপরে মর্যাদা দান করে দিয়ে এবং মর্যাদা ঘোষনা করে দিয়ে সকল উম্মত, জাতি , গোষ্ঠী কেয়ামত পর্যন্ত যারাই আসবে জিন এবং ইনসান সবার ইমাম ঘোষণা করে দিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবীকে। অতীতের অন্য নবী রাসুলগণ জান্নাতের কথা বলেছেন, জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, জাহান্নামের ভয় দেখিয়েছেন। এগুলো আল্লাহতালা তাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন খবর দিয়েছেন। আর তারা শুনে শুনে বলেছেন। এই জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে এর মধ্যে কোন সন্দেহ নাই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন আর লক্ষাধিক পয়গম্বর নবী রাসুলগণ এটা আল্লাহর পক্ষ হতে দেওয়া এই জ্ঞান বিতরণ করতে গিয়ে বলেছেন।
আর আল্লাহ তাআলা তার পেয়ারা হাবিব আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে আসমানে নিয়ে জান্নাত দেখিয়েছেন। জাহান্নাম দেখিয়েছেন আর আল্লাহ তাআলার কুদরত আর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে বাস্তব জ্ঞান দিয়েছেন। সকল নবী বলেছেন শুনে শুনে আর আমাদের নবী দুইটা এলেম একসাথে করে মানুষের সামনে পেশ করেছেন। দুটি এলেম হল;
১. علم اليقين
২. حق اليقين
প্রিয় সম্মানিত ভাইয়েরা, আমি যে বিষয়টা বলতে চেয়েছিলাম তা হল__ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যখন তার পেয়ারা হাবিবকে সম্মানিত করতে চাইলেন, উম্মে হানির ঘর থেকে নিয়ে গেলেন হাতিমে। হাতিমের পাশেই বাম পাশে একটু সামনে গিয়ে জমজমের কুয়া। যারা 10 বছর আগে গিয়েছিলেন আট থেকে নয় বছর আগের জমজমের কুপ দেখেছেন এবং জমজমের পানি তুলে পান করার সুযোগ হয়েছে তারা হয়তো হাতিম দেখেছেন এবং সেখানে বসেছেন।
(জমজমের পানি বসে পান করার সুযোগ নাই, সব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। এই পানির ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পান করার বিধান এসেছে) হাদিসে এসেছে;
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: سَقَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ.
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন—
“আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জমজমের পানি পান করিয়েছি, আর তিনি দাঁড়িয়ে তা পান করেছেন।” — সহীহ আল-বুখারী, হাদীস নং 1637; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 2027.
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবীকে বোরাকের মাধ্যমে সেই হাতিমে কাবা থেকে জিব্রাইল আলাই সালাম এর মাধ্যমে জিবরীলকে রাহাবার বানিয়ে অর্থাৎ পথ প্রদর্শক বানিয়ে তার পেয়ারা হাবিবকে বাইতুল্লাহুল হারাম থেকে বাইতুল্লাহুল মুকাদ্দাস নিয়ে গিয়েছিলেন অল্প সময়ের মধ্যে। সুবহানাল্লাহ।
আল্লাহর নবীর এখানে বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছে। আমাদের নবীর চারবার বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছে সর্বমোট। ছোট সময়ে দুরন্তপনাকে দূর করার জন্য এবং যুবক বয়সে উশৃংখলতা দূর করার জন্য। যেটা যুবক বয়সে আসতে থাকে। যদিও নবীর মধ্যে এটা আসবেনা তারপরও এই ম্যাটেরিয়াল আল্লাহ তায়ালা অপারেশনের মাধ্যমে দূর করে দিয়েছেন।
তিন নম্বর হলো, ওহীর ধারণ ক্ষমতাকে বাড়াবার জন্য। যোগ্যতা পয়দা করার জন্য । সিনা চাক করেছেন। বক্ষ বিদীর্ণ করেছেন।
চতুর্থ বার হল, মেরাজে আল্লাহ তায়ালা তার কাছে নেওয়ার জন্য এমন কিছু মেটেরিয়াল ভিতরে ঢুকিয়েছেন যেটা দিলে উপরে যাওয়া যায়। এই মোট চারবার আল্লাহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছে।
যদিও কিছু কিছু ওলামায়ে কেরাম এবং মুহাদ্দিসিনরা বলেন, সহিহ হাদিসের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূলের দুইবার বক্ষ বিদীর্ণ আলামত পাওয়া যায় ।
- প্রথমবার বক্ষ বিদীর্ণ — শৈশবে হালিমা (রাঃ)-এর ঘরে
সহীহ মুসলিমের হাদীস:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَاهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ، فَأَخَذَهُ فَصَرَعَهُ، فَشَقَّ عَنْ قَلْبِهِ، فَاسْتَخْرَجَ الْقَلْبَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ عَلَقَةً، فَقَالَ: هَذَا حَظُّ الشَّيْطَانِ مِنْكَ، ثُمَّ غَسَلَهُ فِي طَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ بِمَاءِ زَمْزَمَ، ثُمَّ لَأَمَهُ، ثُمَّ أَعَادَهُ فِي مَكَانِهِ، وَجَاءَ الْغِلْمَانُ يَسْعَوْنَ إِلَى أُمِّهِ (يَعْنِي ظِئْرَهُ) فَقَالُوا: إِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ قُتِلَ، فَاسْتَقْبَلُوهُ وَهُوَ مُنْتَقِعُ اللَّوْنِ.
— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 162 (বই: الإيمان, باب الإسراء بالنبي ﷺ) — সহীহ বুখারীতেও উল্লেখ আছে ইঙ্গিতস্বরূপ (হাদীস নং 3207).
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন— “একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ অন্য শিশুদের সাথে খেলছিলেন। তখন জিবরীল (আঃ) তাঁর কাছে আসেন, তাঁকে শুইয়ে দেন, বুক চিরে হৃদয় বের করেন। তারপর তাঁর হৃদয় থেকে একটি কালো দাগ বের করে বলেন, ‘এটাই তোমার মধ্যে থাকা শয়তানের অংশ।’ তারপর সেটি জমজমের পানি দিয়ে একটি সোনার পাত্রে ধুয়ে পরিষ্কার করে আবার জায়গায় ফিরিয়ে দেন।”
- দ্বিতীয়বার বক্ষ বিদীর্ণ — মিরাজের পূর্বে
সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিমে এসেছে:
أُتِيتُ، فَفُرِجَ عَنْ صَدْرِي، وَغُسِلَ قَلْبِي بِمَاءِ زَمْزَمَ، ثُمَّ أُتِيَ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مُمْتَلِئٍ حِكْمَةً وَإِيمَانًا، فَصُبَّ فِي صَدْرِي، ثُمَّ أُعِيدَ فِي مَكَانِهِ، ثُمَّ أُتِيتُ بِالْبُرَاقِ…
— সহীহ আল-বুখারী, হাদীস নং 349;
— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 163.
নবী ﷺ বলেন —“আমার কাছে (জিবরীল) আসলেন, তারপর আমার বুক চিরে ফেলা হলো। আমার হৃদয় জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হলো। এরপর একটি সোনার পাত্রে ভর্তি ঈমান ও হিকমত এনে আমার বুকে ঢেলে দেওয়া হলো, তারপর তা আবার জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এরপর আমাকে বুরাকে চড়ানো হলো…”
— সহীহ বুখারী: 349; সহীহ মুসলিম: 163.
ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
“বুক বিদীর্ণ হওয়া (شقّ الصدر) ঘটেছিল দুইবার —
একবার শৈশবে, আরেকবার মিরাজের রাতে।”
— শরহ সহীহ মুসলিম, নববী, খণ্ড 2, পৃষ্ঠা 207.
কিছু মুরসাল বা দুর্বল বর্ণনায় চারবারের উল্লেখ আছে,
তবে সহীহ হাদীসে দুইবারই প্রমাণিত — এ বিষয়ে ইবনে হাজার, কুরতুবী, নববী প্রমুখ ইমাম একমত।
এই বক্ষ বিদীর্ণ এটাকে গবেষণা করে মেডিকেল সাইন্স ওরা ওপেন হার্ট চার্জারসহ এগুলো আরও কিছু বিজ্ঞান আরোগ্য জ্ঞান সেখান থেকে অর্জন করেছে । এখান থেকে গবেষণা করে মূলনীতি বের করেছেন। কিন্তু আমরা মুসলমান হয়েও জানিনা আমাদের নবীর ঘটনা থেকে গবেষণা করে এগুলো বের করেছেন। মুসলমান হীনমান্যতার শিকার। অথচ মুসলমানদেরকে আল্লাহ তায়ালা কলম দিয়েছেন, কালাম দিয়েছেন । কলমের মাধ্যমে জ্ঞান আর কালামের মাধ্যমে আল্লাহকে মানার জন্য দিয়েছেন । নিজেদের বানানো কোন আইন আল্লাহর আইনের সাথে সংঘর্ষিক এটা কেউ মানুক আর না মানুক মুসলমান মানতে পারেনা । তো মুসলমান এসব ভুলে গেছে। এখনকার মুসলিম যুবকরা তো আব্রাহাম লিংকন নিয়ে পড়ে আছে। অমুক বৈজ্ঞানিক অমুক বিজ্ঞানী অমুক গবেষক নিয়ে পড়ে আছে । অথচ এসবগুলো আমাদের এই সকল গবেষকরাই আমাদের প্রিয় নবী থেকে শিক্ষা অর্জন করেছেন আর আমরা আমাদের ইসলাম থেকে শিক্ষা অর্জন না করে তথাকথিত ব্রিটিশদের থেকে শিক্ষা অর্জন করছি। আর যারা আমরা পড়াশোনা নাই, তারা আমরা অমুক জায়গায় চার দফা অমুক জায়গায় ছয় দফা ১৪ দফা নিয়ে পড়ে আছি। অমুক দল নিয়ে মারামারিতে লিপ্ত আছি। একটা বাড়ির মধ্যেই ১০ দল নিয়ে নিজেরা শরীয়তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিভিন্ন কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছি। আমাদের দীনকে আমাদের শরীয়তকে আমাদের রবকে মানার সময় কোথায় আমাদের কাছে।
মেরে দোস্ত বুজুর্গ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার হাবিবকে বোরাকের মাধ্যমে নিয়ে গেলেন বাইতুল্লাহুল হারাম থেকে। যাওয়ার সময় কয়েক জায়গায় নামাজ পড়ার ব্যবস্থা হয়েছে। তার মধ্যে একটি জায়গায় গিয়ে জিব্রিল বললেন,
হে মোহাম্মদ আপনি অবতরণ করুন। দুই রাকাত নামাজ পড়ুন । আল্লাহর নবী অবতরণ করে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন তারপর বললেন , এবার ওঠেন । আল্লাহর রাসুল বললেন হে জিবরীল এটা কোন জায়গা ? যেখানে আমি দুই রাকাত নামাজ পড়লাম। জিব্রাইল এটা হলো বাইতে লাহাম। যেখানে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করেছেন । একথা বলে তারা আবার সফর শুরু করেছেন।
হাদিসে এসেছে;
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:
«أُتِيتُ بِالْبُرَاقِ، وَهُوَ دَابَّةٌ أَبْيَضُ، فَانْطَلَقْتُ عَلَيْهِ، حَتَّى أَتَيْتُ بَيْتَ لَحْمٍ، وَهُوَ مَوْضِعُ وِلَادَةِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، فَأُنْزِلَ بِي فَصَلَّيْتُ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ…
— মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং 17104
— সুনান আন্নাসাঈ, আল-কুবরা: 11157
— শাইখ আলবানী (রহ.) “সহীহুস সিরাহ” তে সহীহ বলেছেন।
শাদ্দাদ ইবন আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত —
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “আমার কাছে বুরাক আনা হলো — এটি ছিল সাদা রঙের এক বাহন। আমি তাতে আরোহণ করলাম, তারপর বাইতুল লাহাম (যে স্থানে মারইয়াম (আঃ)-এর পুত্র ঈসা (আঃ) জন্মগ্রহণ করেছিলেন) পর্যন্ত পৌঁছালাম। সেখানে আমাকে নামানো হলো,আর আমি সেখানে দুই রাকাআত সালাত আদায় করলাম…”
— মুসনাদ আহমাদ, হাদীস 17104; সুনান আল-কুবরা আন্নাসাঈ 11157.
বাইতুল লাহাম (بَيْتُ لَحْمٍ) হচ্ছে ফিলিস্তিনের বেথলেহেম (Bethlehem), যেখানে ঈসা (আঃ)-এর জন্ম হয়েছিল।রাসূল ﷺ–এর এই নামায তাঁর মিরাজের সফরের অংশ।
এরপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছান এবং সেখানে সকল নবীর ইমামতি করেন।
ইমাম হাইসামী (রহ.) বলেন:
“এই বর্ণনাটি আহমাদ, বাযযার ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন; এর রাবিরা বিশ্বস্ত।”
— মজমাউয্ যাওয়াইদ, খণ্ড 1, পৃষ্ঠা 72.
আমাদের নবী বাইতুল মুকাদ্দাস সেখানে গিয়ে দেখেছেন ও জানছেন যে, একজন মানুষ কবরের মধ্যে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন। আল্লাহর নবী জিবরীলকে জিজ্ঞাসা করলেন ও জিবরীল ওই যে কবরের মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে লোকটা কে? জিবরীল বলল; সে তো মুসা কালিমুল্লাহ। সে কবরের মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছে। সুবহানাল্লাহি বিহামদিহি।
হাদিসে এসেছে;
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ:
مُرِرْتُ عَلَى مُوسَى لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عِنْدَ الْكَعْبَةِ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ.
— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 2375
— মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং 12555
— সহীহ ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং 1170.
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত —
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “ইসরা (রাতের সফর)-এর রাতে আমি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর কবরের পাশে অতিক্রম করি। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে নিজ কবরের ভেতর নামায পড়ছিলেন।” — সহীহ মুসলিম, হাদীস 2375.
অন্য বর্ণনায় এসেছে:
مَرَرْتُ عَلَى مُوسَى وَهُوَ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ عِنْدَ الْكَعْبَةِ الْأَحْمَرِ.
— মুসনাদ আহমাদ 12555; সহীহ মুসলিমেও অনুরূপভাবে।
এখানে “الكَعْبَةِ الأَحْمَرِ” দ্বারা মদীনাহ ও তিহামার মধ্যবর্তী লাল পাহাড়ি এলাকা বোঝানো হয়েছে — যেখানে মূসা (আঃ)-এর কবর অবস্থিত।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: “এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা নবীদেরকে তাদের কবরের মধ্যেও নামায পড়ার ক্ষমতা দিয়েছেন, এবং তারা জীবিত অবস্থায় আল্লাহর ইবাদতে রত আছেন।” — শরহ সহীহ মুসলিম, নববী (খণ্ড 15, পৃষ্ঠা 161).
যারা আল্লাহর কাছে দরখাস্ত করবে আল্লাহ আমার এই আমলটা যদি কবরে করতে পারতাম। নামাজ পড়তে পড়তে। তখন কেয়ামত পর্যন্ত হাজার হাজার বছর দুই চার রাকাত নামাজ পড়তে পড়তে শেষ হবে। জিকির করতে করতে। এক পর্যায়ে জিকিরের ঠেলায় ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করবে তোমার রবকে? সে বলবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ফেরেশতারা বলবে আল্লাহ আমাকে কোন পাগলের কাছে পাঠাইলো । আমি জিজ্ঞেস করেছি কি আর সে উত্তর দেয় কি। এর দ্বারা আমি এটা বুঝানোর চেষ্টা করেছি যে, আল্লাহর কিছু পাগল বান্দা এমন থাকবে কেয়ামতের ময়দানেও জান্নাতেও এমন হবে যে, সে যে আমল পছন্দ করে ওটাই বলবে বারবার। যদি কেউ চাষী হয় তাহলে সে যখন জান্নাতে যাবে আর সেখানে চাষবাসের কথা বলবে , আল্লাহ চাষবাস যদি করতে পারতাম। ফসল যদি করতে পারতাম । তো মুহূর্তের মধ্যে ব্যবস্থা করে দিবেন। গাছের ব্যবস্থা ওখানে করে দেয়া হবে । কাঁঠাল হবে। গম হবে। ওখানে মারাই দেওয়া হবে। বাস কি আরাম আনন্দ আমাদের মনে। আল্লাহর পাগল বান্দাদের অবস্থাও এরকম হবে কেয়ামতের ময়দানে। আর নবীরা যারা যে আমল পছন্দ করছিল তারা কবরের মধ্যে ওই আমল কেয়ামত পর্যন্ত করতে থাকবে যেটা আমি উপরে হাদিস দ্বারা প্রমাণ করেছি।
আর যারা দুনিয়াতে ঘুষ সুদে অভ্যস্ত। কেয়ামতের ময়দানে তাদেরকে জাহান্নামের শুকর কুকুর হতেও নিকৃষ্ট অবস্থায় উঠানো হবে। দুনিয়াতে সে যতই সম্মানিত হোক না কেন। আল্লাহর বান্দাদেরকে কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের উপর জুলুম করেছে, সে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সম্মানিত হবে এটা অসম্ভব। এটা হতেই পারেনা। তারা দুনিয়াতে যেটা পছন্দ করেছে পরকালে তাদেরকে ওই পছন্দের উপর শাস্তি দেওয়া হবে। সহিহ অনেকগুলো হাদিসে এসেছে, যারা সুদখোর যারা ঘুষখোর তাদের ব্যাপারে শাস্তির কথা এসেছে। আমি এখানে আর হাদিসগুলো আলোচনা না করি, তাহলে আমার আজকে আলোচনা লম্বা হয়ে যাবে।
যাক আমি বলতে চেয়েছিলাম আল্লাহ রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বায়তুল মুকাদ্দাসে হালকা পরিচয় হয়ে তারপর এক টানে প্রথম আসমানে গিয়ে দেখে আব্বাজান আদম আলাইহিস সালাম। ফেরেশতা বললেন, সালামুন আলাইহি । রাসুল বললেন, আসসালামু আলাইকুম ইয়া আবী। আদম আলাইহিস সালামের উত্তর দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? আল্লাহ রাসুল বললেন, আমি মোহাম্মদ । তখন আদম আ. আমাদের নবীর প্রশংসা করবেন। বাবা সন্তানের প্রশংসা করবেন। কি সুন্দর দৃশ্য। ।
এই ব্যাপারে হাদিস শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে;
فَلَمَّا جِئْتُ السَّمَاءَ الدُّنْيَا، قَالَ جِبْرِيلُ لِخَازِنِ السَّمَاءِ: افْتَحْ، قَالَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ، قَالَ: هَلْ مَعَكَ أَحَدٌ؟ قَالَ: مَعِي مُحَمَّدٌ ﷺ، فَقِيلَ: أَوَقَدْ بُعِثَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَفُتِحَ لَنَا، فَإِذَا أَنَا بِآدَمَ، فَرَحَّبَ بِي، وَدَعَا لِي بِخَيْرٍ، وَرَأَيْتُ عَنْ يَمِينِهِ أَسْوِدَةً، وَعَنْ يَسَارِهِ أَسْوِدَةً…
— সহীহ আল-বুখারী, হাদীস নং 349,
— সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 164 (মেরাজ হাদীস).
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন;
“আমি যখন প্রথম আসমানে পৌঁছলাম, জিবরাইল আসমানের দ্বাররক্ষীকে বললেন, ‘দরজা খোল’। সে বলল, ‘কে তুমি?’ তিনি বললেন, ‘জিবরাইল’। সে বলল, ‘তোমার সঙ্গে কেউ আছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, মুহাম্মদ ﷺ’।
তখন জিজ্ঞেস করল, ‘তাঁর (মুহাম্মদ ﷺ-এর) প্রতি কি ওহী নাযিল হয়েছে?’ জিবরাইল বললেন, ‘হ্যাঁ’। তখন দরজা খুলে দেওয়া হলো।
আমি সেখানে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন, আমার জন্য কল্যাণ কামনা করলেন। আমি দেখলাম, তাঁর ডান পাশে ও বাম পাশে আত্মারা আছে…”
— সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল আনবিয়া, হাদীস: 349
— সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইমান, হাদীস: 164
দ্বিতীয় আসমানে ঈসা আলাইহিস সালাম এবং ইয়াহিয়া আলাইহিস সালামের সাথে দেখা করে তৃতীয় আসমানে ইউসুফ আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন । চতুর্থ আসমানে ইদ্রিস আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাৎ আর পঞ্চম আসমানে হারুন আলাইহিস সালাম এর সাথে।
ষষ্ঠ আসমানে মুসা কালিমুল্লাহ এর সাথে।
প্রত্যেক নবীর সাথে কথোপকথন হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি আজকে এই বিষয়ে বেশি আলোচনা করব না। পরবর্তীতে কখনো সময় হলে এ বিষয়ে আলোচনা করব। আমি সংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করছি।
সপ্তম আসমানে জাতির পিতার সাথে সাক্ষাৎ। তিনি বায়তুল মামুর এর পাশে থাকবেন। এখানে হাজার হাজার ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে পড়াইতেছেন।
হাদিসে এসেছে;
فَلَمَّا بَلَغْتُ السَّمَاءَ السَّابِعَةَ، فَلَقِيتُ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: أَهْلًا وَسَهْلًا يَا نَبِيَّ اللَّهِ، وَرَحِمَ اللَّهُ أُمَّكَ.
(رواه مسلم، البخاري)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ
“যখন আমি সপ্তম আসমানে পৌঁছালাম, আমি ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম।
আমি তাঁকে সালাম দিলাম, তিনি বললেনঃ
‘স্বাগতম, নবী আল্লাহ ﷺ! তোমার মায়ের প্রতি আল্লাহ রহমত করুন।’” — সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইমান, হাদীস নং 164
— সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল আনবিয়া, হাদীস নং 349
অন্য হাদিসে এসেছে;
فِي السَّمَاءَ السَّابِعَةِ بَيْتُ الْمَأْمُورِ، وَفِيهِ يُصَلِّي إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَعَ أَلْفَ مَلَكٍ، وَيَعُودُونَ كُلَّ يَوْمٍ فِي بَيْتِهِ مِثْلَ ذَلِكَ.
(رواه الطبراني في الكبير، مع تصحيح الألباني)
সপ্তম আসমানে বায়তুল মামুর অবস্থিত।
সেখানে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম প্রতিদিন হযার হাজার ফরিশ্তার সাথে নামায আদায় করেন এবং তাদের শিক্ষা দেন। এরা প্রতিদিনের পরিমাণে একদিন নামাজ আদায় করলে, পরের দিন আবার সেই একই সংখ্যা উপস্থিত হয়।
— তাফসীর আত-তাবারী, মেরাজ অধ্যায়
— মুসনাদে তাবারানী, সহীহ হিসেবে আলবানী নিশ্চিত করেছেন
বাচ্চাদেরকে পড়ানোর এই কথা কেন ? এর দ্বারা বুঝা যায় শেখার মূল উপযুক্ত সময় হল বাচ্চা বয়সে । বাচ্চা বয়সে দুই নম্বরি করবে না। ইংলিশ মিডিয়ায় দিবেন কুকুর পড়বে। পড়ে সে আপনার সাথে অসভ্য আচরণ করবে যা আপনারা এখনো দেখেছেন।
প্রিয় ভাইয়েরা, এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, মেরাজ একটি মহৎ শিক্ষা ও দৃষ্টান্ত, যেখানে নবী ﷺ–কে আল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠতা দেওয়া হয়েছে, নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করা হয়েছে এবং আমাদের জন্য ঈমান ও হিকমতের শিক্ষা প্রদর্শিত হয়েছে। আমাদের কর্তব্য হলো এই জ্ঞান থেকে প্রেরণা নিয়ে, নিজের জীবন ও আমলকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রস্তুত করা।
আল্লাহ আমাদের সকলকে নবীর ﷺ–এর পদচারণা অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।